,

ThemesBazar.Com

জসীমের অব্যাহতির খবরে বিএনপিতে স্বস্তি!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দিনসহ বিতর্কিত তিন সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিতর্কিত এসব কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত হওয়ার খবরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

 

চাকরিচ্যুত তিনজন হলেন- নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দিন, চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স সদস্য (সিএসএফ) মো. মাসুদার রহমান মাসুদ ও মো. এনামুল হক এনাম। প্রায় দুই মাস আগে তাদের চাকরিচ্যুত করা হলেও সম্প্রতি এ খবর প্রকাশ পায়।

 

এ বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এক সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার জসীমসহ বিতর্কিত সিএসফ সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে সুসংবাদ।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘২০১২ সালের ১০ অক্টোবর রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ থেকে অডিও ভিডিও ডিভাইস সংবলিত ১৭টি কলম উদ্ধার করা হয়। এগুলো দিয়ে কার্যালয়ের তথ্য পাচার হতো বলে সে সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। বিষয়টি নিয়ে জসীমসহ অনেকের প্রতিই নেতাকর্মীদের সন্দেহ ছিল। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জসীম আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যেভাবে আচারণ করতো তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না।’

 

যুবদলের এ নেতা দাবি করেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুবাধে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এবং তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পাননি। অনিয়ম দুনীতির মাধ্যমে উত্তরায় বিলাসবহুল বাড়ি করেছে জসীম।’

 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য মো. আব্বাস আলী বলেন, ‘জসীম উদ্দিন অনেক সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করতেন। এ নিয়ে নেতারা বিব্রত হলেও অজ্ঞাত কারণে কিছু বলতে পারতেন না। তাকে চাকরিচ্যুত করার খবর আমাদের জন্য সুসংবাদ।’

 

ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমি ২০/২২ বছর ধরে ছাত্ররাজনীতি করি, আমি কখনও ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) কাছে আমার নাম পর্যন্ত বলতে পারিনি। আর জসীম একজন কর্মচারী হয়ে এমন ভাব দেখাতো মনে হতো সে’ই গুলশান অফিসের অপরিহার্য নিয়ন্ত্রক।’

 

চেয়ারপারসনের অফিসের বিতর্কিত কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতের বিষয়ে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক
সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিউজে দেখেছি, এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’

এছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কোনো সদস্যও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সমন্বয়কারী ও পুলিশের সাবেক আইজি এম এ কাইয়ুমের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কী আর কথা বলার দরকার আছে?’ এর পর বিষয়টি নিয়ে তিনি আর কোনো কথা বাড়াতে রাজি হননি। এছাড়া গুলশান কার্যালয়ের চাকরিচ্যুতদেরও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

ThemesBazar.Com

     আরও সংবাদ