বাজে ফিল্ডিংকেই দুষলেন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বেন স্টোকসেরও একাধিক সহজ ক্যাচ পড়েছিল। সেই সূত্রে সেঞ্চুরিই করে ফেলা অলরাউন্ডারের ব্যাটে গত ৭ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে তুলেছিল ৩০৯ রান।

 

মনে হয়েছিল ম্যাচটি বুঝি সেখানেই শেষ! এত রান তাড়া করে জেতা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু ইমরুল কায়েসের সেঞ্চুরির সঙ্গে সাকিব আল হাসানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়টা কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল। যদিও ৪ উইকেটে ২৭১ রান থেকে ১৭ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে হারের নিয়তিই সেবার মানতে হয়েছিল স্বাগতিকদের। বাংলাদেশ শিবিরে কান পাতলেই যে হার নিয়ে এখনো আর্তনাদ শোনা যায়। তবে ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ওয়ানডের হার নিয়ে সেরকম কোনো আর্তনাদ করার সুযোগ অন্তত নেই। এবার যে নিউজিল্যান্ড তুলে ফেলেছিল আরো বেশিই, ৩৪১ রান!

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া কিউইরা ম্যাচটি সেখানেই শেষ করে দিয়েছিল একরকম। মাশরাফি বিন মর্তুজাও ৭৭ রানের হারের পর রান বেশি দিয়ে দেওয়ার কথাই জোর দিয়ে বলছিলেন বেশি, ‘আমরা আরো ৪০টি রান কম দিতে পারতাম। ’ তাহলে হয়তো রান তাড়ার ক্ষেত্রে সুযোগও আরো বেশি থাকত। সেই সুযোগ যে থাকল না, সে জন্য বাজে ফিল্ডিং আর বোলিংকেই দুষেছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমাদের ফিল্ডিং ছিল খুবই বাজে। ওরা অনেকবার দুই-তিন রান করে নিয়েছে, যেগুলো আমরা আটকাতে পারতাম। ২০ রানের মতো বেশি তো এখানেই বেরিয়ে গেছে। বোলিংয়ে শর্ট বলও বেশি করেছি আমরা। এখানে ২৮০-৩০০ রান হবেই। বোলিং-ফিল্ডিং ভালো হলে বাড়তি রান আমরা ঠেকাতে পারতাম। তখন শুরুতে উইকেট হারানোর পরও আমাদের একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু বাড়তি ওই রানের কারণেই আমরা আর সেই সুযোগটি নিতে পারলাম না। ’

নেতিবাচক এত কিছুর পরও এই হার থেকে ইতিবাচক কিছু না কিছু খোঁজার চেষ্টা থাকবেই। তা খুঁজে পাওয়াটা অবশ্য অধিনায়কের জন্য মোটেও কষ্টসাধ্য কিছু ছিল না, ‘এত কিছুর পরও এটা দেখে ভালো লেগেছে যে আমরা ইতিবাচক ব্যাটিংই করেছি। শুরুতে দ্রুত কিছু উইকেট হারানোর পরেও আমরা মোটামুটি একটা সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছি। সামনে যদি আমরা ওদের ২৮০-৩০০ রানে আটকে দিতে পারি, তাহলে সেই রান তাড়া করে জেতার আত্মবিশ্বাস জোগাবে এই ম্যাচ। ’ বোলিং নিয়েও অবশ্য অধিনায়কের হতাশার জায়গা আছে। তাতে যোগ আছে সেই বাজে ফিল্ডিংয়েরই, ‘বড় হতাশার জায়গা ছিল ফিল্ডিং। এটিতে আমরা মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলাম। অথচ ফিল্ডিং একটু ভালো হলে তা বোলারদেরও হয়তো অনুপ্রাণিত করত। বোলিং-ফিল্ডিং বাজে হওয়াতেই বাড়তি রান হলো। এই রান তাড়া করতে হলে শুরুতে দ্রুত রান করতে হতো। আমাদের কিনা শুরুতে উল্টো উইকেট পড়েছে। ’

নিউজিল্যান্ডের পেসাররা যেখানে ক্রমাগত শর্ট বলে ঘায়েল করেছেন সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের, সেখানে বাংলাদেশের বোলাররা সেই ডেলিভারিতেই দেদার রান বিলিয়ে গেছেন। এর কারণ দু’দলের পেসারদের শর্ট বলের গুণগত পার্থক্য। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সেটিও তুলে ধরেছেন মাশরাফি, ‘আমরা শর্ট বল একটু বেশিই করেছি। মানছি যে এই কন্ডিশনে সফল হতে গেলে শর্ট বল অবশ্যই করতে হবে। তবে সেটি হতে হবে কার্যকর শর্ট বল। যেমনটি করেছে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। ওদের শর্ট বলগুলো এসেছে আমাদের মাথা বরাবর। আর আমাদের করা শর্ট বলগুলো ছিল ওদের ব্যাটসম্যানদের বুক সমান উচ্চতায়, যেগুলো থেকে ওরা অনায়াসেই রান তুলেছে। ’ রান তুলে তুলে যে জায়গায় গিয়েছিল কিউইরা, তার জবাবে শুরুতে দ্রুত কিছু উইকেট হারানোর পরেও বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরতে পেরেছিল বলেও মনে করেন মাশরাফি। আর সেটি সাকিবের ব্যাটে। তবে ৫৪ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় সাজানো তাঁর ৫৯ রানের ইনিংসটির অসময়ে থামা নিয়ে দুঃখও ঝরল অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য যতটা সহজ ছিল, তাতে সাকিব শেষ পর্যন্ত থাকলে অন্য রকম কিছুও হতে পারত। ওই সময় সাব্বিরও আউট হয়েছে। দুই বিগ হিটার আউট হয়ে যাওয়াতেই কাজটি কঠিন হয়ে গেছে। ’ দুজনেই পেসার লকি ফার্গুসনকে ছক্কা মারার পরের বলেই আউট হয়েছেন। আর ধরনও একই, সাকিবের মতো সাব্বিরও শর্ট বলে হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ হয়েছেন। মুশফিকুর রহিমের চোটও শেষ সর্বনাশ করেছে বলে মনে করেন অধিনায়ক, ‘মুশফিক ও সৈকত (মোসাদ্দেক হোসেন) যখন ছিল, একপর্যায়ে ৮৪ বলে রান লাগত ১৪০। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতো অবস্থা অনেকটা। তখন মুশফিক ব্যথা পেল। না হলে আমরা ৩০০-৩১০ রান পর্যন্ত গিয়ে হয়তো একটা কিছু করার চেষ্টা করতাম। ’ যদিও ম্যাচের পর বাড়তি কিছু রান দেওয়ার বেদনাই বেশি বাংলাদেশ শিবিরে। আজ ২৯ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেলসনে যাওয়া দল সেখানে গিয়ে এই বেদনা ভুলেই নতুন করে জেগে উঠতে চাইবে নিশ্চিত।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» প্রকাশ হল শুভ- তাহার “ভাল থেকো” সিনেমার অফিসিয়াল পোস্টার

» মামলা করলেন শাওন

» গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি কর্মসূচি দেবে

» হাসপাতালের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ৭ সাংবাদিক কারাগারে

» ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমে দীনতার ভয়াবহতা

» পরিবহন ধর্মঘটে অচল খুলনা বিভাগ

» কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন যারা

» মেহেরপুরে হেরোইন ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫

» অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড: ২ বছরেও গ্রেপ্তার হয়নি খুনিরা

» মাসে ১০০ রিয়াল কর পরিশোধ করতে হবে সৌদি শ্রমিকদের

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সরোয়ার সৈকত
ফ্রেশ মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ফ্রেশনিউজবিডি.কম
রিনা মঞ্জিল, ৯৩ মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭।
মোবাইল: ০১৯১১-৮৮৭৮৪৪
ই-মেইল: news@freshnewsbd.com, freshnewsbd@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

বাজে ফিল্ডিংকেই দুষলেন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বেন স্টোকসেরও একাধিক সহজ ক্যাচ পড়েছিল। সেই সূত্রে সেঞ্চুরিই করে ফেলা অলরাউন্ডারের ব্যাটে গত ৭ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে তুলেছিল ৩০৯ রান।

 

মনে হয়েছিল ম্যাচটি বুঝি সেখানেই শেষ! এত রান তাড়া করে জেতা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু ইমরুল কায়েসের সেঞ্চুরির সঙ্গে সাকিব আল হাসানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়টা কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল। যদিও ৪ উইকেটে ২৭১ রান থেকে ১৭ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে হারের নিয়তিই সেবার মানতে হয়েছিল স্বাগতিকদের। বাংলাদেশ শিবিরে কান পাতলেই যে হার নিয়ে এখনো আর্তনাদ শোনা যায়। তবে ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ওয়ানডের হার নিয়ে সেরকম কোনো আর্তনাদ করার সুযোগ অন্তত নেই। এবার যে নিউজিল্যান্ড তুলে ফেলেছিল আরো বেশিই, ৩৪১ রান!

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া কিউইরা ম্যাচটি সেখানেই শেষ করে দিয়েছিল একরকম। মাশরাফি বিন মর্তুজাও ৭৭ রানের হারের পর রান বেশি দিয়ে দেওয়ার কথাই জোর দিয়ে বলছিলেন বেশি, ‘আমরা আরো ৪০টি রান কম দিতে পারতাম। ’ তাহলে হয়তো রান তাড়ার ক্ষেত্রে সুযোগও আরো বেশি থাকত। সেই সুযোগ যে থাকল না, সে জন্য বাজে ফিল্ডিং আর বোলিংকেই দুষেছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমাদের ফিল্ডিং ছিল খুবই বাজে। ওরা অনেকবার দুই-তিন রান করে নিয়েছে, যেগুলো আমরা আটকাতে পারতাম। ২০ রানের মতো বেশি তো এখানেই বেরিয়ে গেছে। বোলিংয়ে শর্ট বলও বেশি করেছি আমরা। এখানে ২৮০-৩০০ রান হবেই। বোলিং-ফিল্ডিং ভালো হলে বাড়তি রান আমরা ঠেকাতে পারতাম। তখন শুরুতে উইকেট হারানোর পরও আমাদের একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু বাড়তি ওই রানের কারণেই আমরা আর সেই সুযোগটি নিতে পারলাম না। ’

নেতিবাচক এত কিছুর পরও এই হার থেকে ইতিবাচক কিছু না কিছু খোঁজার চেষ্টা থাকবেই। তা খুঁজে পাওয়াটা অবশ্য অধিনায়কের জন্য মোটেও কষ্টসাধ্য কিছু ছিল না, ‘এত কিছুর পরও এটা দেখে ভালো লেগেছে যে আমরা ইতিবাচক ব্যাটিংই করেছি। শুরুতে দ্রুত কিছু উইকেট হারানোর পরেও আমরা মোটামুটি একটা সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছি। সামনে যদি আমরা ওদের ২৮০-৩০০ রানে আটকে দিতে পারি, তাহলে সেই রান তাড়া করে জেতার আত্মবিশ্বাস জোগাবে এই ম্যাচ। ’ বোলিং নিয়েও অবশ্য অধিনায়কের হতাশার জায়গা আছে। তাতে যোগ আছে সেই বাজে ফিল্ডিংয়েরই, ‘বড় হতাশার জায়গা ছিল ফিল্ডিং। এটিতে আমরা মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলাম। অথচ ফিল্ডিং একটু ভালো হলে তা বোলারদেরও হয়তো অনুপ্রাণিত করত। বোলিং-ফিল্ডিং বাজে হওয়াতেই বাড়তি রান হলো। এই রান তাড়া করতে হলে শুরুতে দ্রুত রান করতে হতো। আমাদের কিনা শুরুতে উল্টো উইকেট পড়েছে। ’

নিউজিল্যান্ডের পেসাররা যেখানে ক্রমাগত শর্ট বলে ঘায়েল করেছেন সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের, সেখানে বাংলাদেশের বোলাররা সেই ডেলিভারিতেই দেদার রান বিলিয়ে গেছেন। এর কারণ দু’দলের পেসারদের শর্ট বলের গুণগত পার্থক্য। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সেটিও তুলে ধরেছেন মাশরাফি, ‘আমরা শর্ট বল একটু বেশিই করেছি। মানছি যে এই কন্ডিশনে সফল হতে গেলে শর্ট বল অবশ্যই করতে হবে। তবে সেটি হতে হবে কার্যকর শর্ট বল। যেমনটি করেছে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। ওদের শর্ট বলগুলো এসেছে আমাদের মাথা বরাবর। আর আমাদের করা শর্ট বলগুলো ছিল ওদের ব্যাটসম্যানদের বুক সমান উচ্চতায়, যেগুলো থেকে ওরা অনায়াসেই রান তুলেছে। ’ রান তুলে তুলে যে জায়গায় গিয়েছিল কিউইরা, তার জবাবে শুরুতে দ্রুত কিছু উইকেট হারানোর পরেও বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরতে পেরেছিল বলেও মনে করেন মাশরাফি। আর সেটি সাকিবের ব্যাটে। তবে ৫৪ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় সাজানো তাঁর ৫৯ রানের ইনিংসটির অসময়ে থামা নিয়ে দুঃখও ঝরল অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য যতটা সহজ ছিল, তাতে সাকিব শেষ পর্যন্ত থাকলে অন্য রকম কিছুও হতে পারত। ওই সময় সাব্বিরও আউট হয়েছে। দুই বিগ হিটার আউট হয়ে যাওয়াতেই কাজটি কঠিন হয়ে গেছে। ’ দুজনেই পেসার লকি ফার্গুসনকে ছক্কা মারার পরের বলেই আউট হয়েছেন। আর ধরনও একই, সাকিবের মতো সাব্বিরও শর্ট বলে হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ হয়েছেন। মুশফিকুর রহিমের চোটও শেষ সর্বনাশ করেছে বলে মনে করেন অধিনায়ক, ‘মুশফিক ও সৈকত (মোসাদ্দেক হোসেন) যখন ছিল, একপর্যায়ে ৮৪ বলে রান লাগত ১৪০। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতো অবস্থা অনেকটা। তখন মুশফিক ব্যথা পেল। না হলে আমরা ৩০০-৩১০ রান পর্যন্ত গিয়ে হয়তো একটা কিছু করার চেষ্টা করতাম। ’ যদিও ম্যাচের পর বাড়তি কিছু রান দেওয়ার বেদনাই বেশি বাংলাদেশ শিবিরে। আজ ২৯ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেলসনে যাওয়া দল সেখানে গিয়ে এই বেদনা ভুলেই নতুন করে জেগে উঠতে চাইবে নিশ্চিত।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সরোয়ার সৈকত
ফ্রেশ মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ফ্রেশনিউজবিডি.কম
রিনা মঞ্জিল, ৯৩ মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭।
মোবাইল: ০১৯১১-৮৮৭৮৪৪
ই-মেইল: news@freshnewsbd.com, freshnewsbd@gmail.com

Design & Developed BY PopularITLimited